শফিক হাসান
মাৎস্যন্যায় শব্দটি আবিষ্কার ও ব্যবহারের পরপরই কি বেড়ে গেলে
খাওয়াখাওয়ির নতুন সমীকরণ, বড় মাছ গিলে খাবে ছোট মাছকে
ছোট মাছ আশ্রয় হারিয়ে প্রাণ বাঁচাবে দিগি¦দিক ছুটবে দিশাহীন
শেষপর্যন্ত কতটুকুই-বা তার বিচরণ পরিধি, হাঙ্গর আকীর্ণ সমুদ্রে
অসহায় মাছ চেনা-অচেনা চৌহদ্দিতে সাঁতরাতে পারে কতটুকু...!
মাছ না হয়ে অন্য কোনো প্রাণী হয়ে জন্মালেও কি মিলবে নিস্তার
জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ; বাঘ-সিংহ-সর্পের লড়াইয়ের শেষ দৃশ্যে
তীরবিদ্ধ অবোধ হরিণী; নিজের মাংস ও সম্পদই ছিল বড় শত্রু।
জল ঘোলা করার অপরাধ দেখিয়ে দখলদাররা সব কুক্ষিগত করবে
হারাতে হারাতে যখন দেয়ালে ঠেকে যায় পিঠ, পিছু ফিরলে দেখে
দেয়াল কই এ-যে কাঁটাতারের বেড়া; সামনে আবার উদ্যত বন্দুক
পালানোর কোনো পথই অবশিষ্ট নেই নিপীড়িতের তলোয়ারহীনের।
মাৎস্যন্যায়ই শেষ কথা নয়; এক শক্তি আরেক শক্তিকে পরাস্ত করবে
সমস্ত কিছুই কুক্ষিগতের পাঁয়তারায় আকাশে ছোটাবে ধোঁয়ার তুবড়ি
দেশ থেকে দেশে পরিষ্কার চিমনিতে পড়তেই থাকবে ধূসর আস্তরণ
মাতাল বোমা-গুলি অস্ত্র হামলায় শিশুগুলো তারস্বরে কাঁদতে থাকলে
কিশোরীর স্বপ্ন ছাইচাপা ঘাসে বিবর্ণতর হতে থাকলে, নারীরা আরও
বিবস্ত্র হলে বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে পুরুষ হয়ে উঠবে অগ্নিমানুষ-যোদ্ধা?
‘ইন্তিফাদা’ শেষে কতটুকু কী পারে ক্ষোভের আগুন প্রশমিত করতে
স্বজনহারার দুঃখ ভোলাতে, ক্ষুধার অন্ন-জল বাসস্থানের সন্ধান দিতে।
অনেক কিছুই হয় না, নির্লজ্জ ছিনাল পৃথিবী থেমে যায় দিকচক্রবালে
রোনাজারির বিপরীতে দৃশ্যে রঙিন মদের গ্যাসে বুদবুদ তোলার আসর
লোলুপ সারমেয়র দরকার আরও ক্ষমতা, আরও বেশি পরিমাণে সম্পদ
নিরীহ-নিরন্নের শান্তি-স্বস্তি বিনষ্টের মাধ্যমে ফুলে-ফেঁপে ওঠে হার্মাদকুল।
একাত্তর-বিভীষিকার বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম-ফিলিস্তিন দেশে দেশে
দেশে দেশে যে সংঘাতময় পরিস্থিতি, উপনিবেশী মনোভাব সবই কি
সভ্যতার উপহার, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে উৎকর্ষ যুগেও এত অসভ্য-আগ্রাসী!
আবাবিল পাখি পাথর ছুড়ে সুরক্ষা দিয়েছিল অতীতে, ধ্বংসের বিপরীতে
স্থাপিত হয়েছিল শান্তি; সেই আবাবিল পাখিগুলোকেই এখন বড় প্রয়োজন
উড়ে আসুক আবাবিল পাখি শান্তির দূত হয়ে যেখানেই অন্যায় অবিচার
সেখানেই ডানা মেলে দিক আবাবিল, পাখির ডানা ভেদ করে সূর্য দিক
আলোকরশ্মি, কিরণচ্ছটা দূর করুক কালো নাসারন্ধ্রে পৌঁছাক সুগন্ধী!
জাগবে কি মানব-মন, আসবে কি আবাবিল, নাকি সকলই গরল ভেল?